মালদা জেলাতেও দেখা দিল বন্যা। নেপাল ও উত্তরবঙ্গে অতি বর্ষণের জেরে বিপদসীমা পেরিয়েছে ফুলহর নদী। দ্রুতগতিতে জল বাড়ছে জেলার দুই নদী গঙ্গা ও মহানন্দারও। ফলে আজ রাতের মধ্যে জেলার বাকি দুই নদীর জলও বিপদসীমা পেরিয়ে যাবে বলে জানা গিয়েছে। প্রবল বর্ষণের ফলে উত্তরবঙ্গের নদীগুলিতে দেখা দিয়েছে জলোচ্ছ্বাস। মালদা ছাড়া উত্তরের অন্য জেলাগুলিতে শুরু হয়েছে বন্যা। এবার মালদাতেও দেখা গেল বন্যা। জেলা সেচ দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ফুলহর নদীর জল চরম বিপদসীমার উপর দিয়ে বইছে। ফুলহরের বর্তমান জলস্তর ২৯.৩৫ মিটার। চরম বিপদসীমা ২৮.৩৫ মিটার। অর্থাৎ, এই মুহূর্তে ফুলহরের জল চরম বিপদসীমার ১ মিটার উপর দিয়ে বইছে। জেলার প্রতিটি নদীর জলই ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে বলে দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে।এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় ফুলহরের জল বেড়েছে প্রায় ১৫০ সেন্টিমিটার। জলের তোড়ে আশঙ্কাজনক অবস্থা বিহারের আজিমনগরের ধবল বাঁধ। বাঁধ উচপে জল ঢুকছে গ্রামে। তাতে দৌলতনগর, মালিওর ১ ও ২, হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় বন্যার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রতুয়া ১ ও হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের প্রায় ১৫টি গ্রামে ফুলহরের জল ঢুকতে শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ইসলামপুর, গোবরা, সম্বলপুর, বঙ্কুটোলা, মেঘুটোলা, বোধনটোলা, আজ়িজ়টোলা, জঞ্জালিটোলা, মিঞাঁহাট, উত্তর ভাকুরিয়া ও অন্যান্য এলাকা।দুই পঞ্চায়েতের প্রায় ৩০ হাজার মানুষ জলবন্দী।
তাঁরা আশ্রয় নিচ্ছেন নদীর বাঁধ ও উঁচু আমবাগানে। ফুলহরের জলের তোড়ে বিপন্ন গোবরা রিংবাঁধও। এই বাঁধটি ভেঙে গেলে আরও সাতটি গ্রাম বানভাসি হবে। আজ এলাকা পরিদর্শনে যান চাঁচলের মহকুমাশাসক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায়, হরিশ্চন্দ্রপুর ২ ব্লকের বিডিও কৃষ্ণ দাস।
মহকুমাশাসক দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় জানান, হঠাৎ করে জলস্তর বৃদ্ধির জন্যই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নদীর বাঁধ অক্ষত রাখতে সবরকম চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তাঁরা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন।
তবে ত্রাণ নিয়েও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। গতকাল সন্ধে থেকেই অনেক দুর্গত মানুষ বিভিন্ন স্কুলে অস্থায়ী ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিয়েছেন। সরকারের তরফে কোনও ত্রাণের ব্যবস্থা করা হয়নি। খাবার নেই, জল নেই।” ত্রাণ না পেয়ে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। আরেক দুর্গত আকতারুল হক বলেন, “জল যে গতিতে বাড়ছে কোনও জিনিস নিয়ে আসতে পারিনি। যা হাতের কাছে পেয়েছি তা নিয়ে চলে এসেছি। এখনও পর্যন্ত কেউ আমাদের দেখতে আসেনি।” এমনি অভিযোগ গ্রামবাসীদের।
এই ভাবে আর এদিন যদি বৃষ্টি হয় তাহলে সমস্ত এলাকাতে লাল সংকেত জারি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।